আটোয়ারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, সাংবাদিককে হুমকি
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্প কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের গ্রামীণ রাস্তায় সিসি ঢালাই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতো মধ্যে যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান নয়। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ, উপজেলার ধামোর ইউনিয়নে ৪টি কাবিটা প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো: গিরাগাও গ্রামে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দে ৬৬০ ফিট রাস্তায় ইটের সলিং, মালগোবা গ্রামে ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ৩০০ ফিটের সিসি ঢালাই, রাজাগাও গ্রামের নজরুলের বাড়ি থেকে নাগর নদী পর্যন্ত ৪ লাখ টাকার রাস্তা সংস্কার এবং জুগিকাটা গ্রাম থেকে মিশন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার রাস্তা সংস্কারের কাজ। এই ৪ টি প্রকল্পের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) মালগোবা গ্রামে ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ৩০০ ফিটের সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। উক্ত প্রকল্পগুলোর সভাপতি ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আঃ লীগের আটোয়ারী উপজেলার সহ-সভাপতি আবু তাহের মোঃ দুলাল। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের প্রত্যেকটি কাজের সরদার হলেন উপজেলার সুখাতি গ্রামের জনৈক এনামুল হক। তিনি বর্তমানে বহাল তবিয়তে বেশ কয়েকটি কাবিখা এবং কাবিটা প্রকল্পের কার্যক্রমের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার মালগোবা গ্রামের রাস্তার সিসি ঢালাইয়ের কাজে নি¤œমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠে। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে নতুন ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও রাস্তায় মোট ৫ ইঞ্চি ঢালাইয়ের কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করেই কোথাও ৩ ইঞ্চি আবার কোথাও ৪ ইঞ্চি ঢালাই করেন। এব্যাপারে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্য্য সহকারী শাহিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কাজ একেবারেই ভালো হচ্ছেনা। ৫ ইঞ্চির জায়গায় প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি ঢালাই করা হচ্ছে। কাজের শুরুতে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে পড়লে ইটের খোয়া পরিবর্তন করে দেয়।
এবিষয়ে ওই প্রকল্পের সভাপতি ও ধামোর ইউপির চেয়ারম্যান আবু তাহের মোঃ দুলাল জানান, ওখানে তো অফিসের লোক রয়েছে। কাজ ভালো হওয়ার কথা। ৫ ইঞ্চি ঢালাইয়ের কম হলে অফিসের লোক বিষয়টি অবশ্যই দেখবে। তবে আমি ওখানে কথা বলছি যেন ৫ ইঞ্চির কম ঢালাই না হয়।
ওই প্রকল্পের সরদার এনামুল হক জানান, এসব কাজের মধ্যে একটু-আধটু কম-বেশি হতেই পারে। যেখানে বড় বড় কাজ হয়, কোটি কোটি টাকার কাজ হয় সেখানে কেন সাংবাদিকদের চোখ যায়না।
পরে ওই কাজের ভুলক্রটি ধরতে যাওয়ায় প্রতিবেদককে হুমকি-ধামকি দেন সরদার এনামুল। তিনি প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে বলেন, কেন কাজ দেখতে যাওয়া হয়েছে আর কেন এই-বা পিআইও’কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ:দা:) মোঃ জিয়াউর রহমান মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম। রোববার অফিস খোলার পরে আমি বিষয়টি দেখব।#








