রুহিয়ায় বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর শুধু বৈশ্বিক আলোচনার বিষয় নয়। এটি প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের জীবনযাপনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ রক্ষার প্রয়াস নয়, বরং একটি আশা জাগানিয়া সামাজিক বার্তাও।
২৮ জুলাই, রোববার। ঠাকুরগাঁও সদরের মুজামণ্ডলহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে সকাল থেকেই ব্যতিক্রমধর্মী এক পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি শুরু হয়। বন্ধুসভার সদস্যরা ব্যস্ত সময় পার করেন শতাধিক ফলজ গাছের চারা বাছাই, বিতরণ ও রোপণ নিয়ে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় আম, লেবু ও পেয়ারাসহ ১০০টি ফলদ বৃক্ষের চারা। পাশাপাশি বিদ্যালয় চত্বরে সদস্যরা নিজের হাতে রোপণ করেন পরিবেশবান্ধব বার্তাসমৃদ্ধ কয়েকটি গাছ।
চারা বিতরণ শেষে এক উন্মুক্ত সেমিনারে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজলুম পারভেজ, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শিহাব।
বক্তব্যে বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী শিক্ষক রাবেয়া আপেল হাসি বলেন,“গাছের মতোই বন্ধুসভার বন্ধুরাও আমাদের পরিবেশের বন্ধু। প্রতিবছর বন্ধুসভার উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।”
প্রধান শিক্ষক মজলুম পারভেজ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকার জন্য বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।”
তিনি বন্ধুসভার এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বন্ধুসভা কেবল বই পড়ুয়া একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি সচেতন নাগরিক তৈরি ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার আন্দোলনও বটে। এ কর্মসূচি তারই বাস্তব প্রতিফলন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক এ ধরনের উদ্যোগ কিশোর-তরুণদের মনে পরিবেশবান্ধব মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বন্ধুসভার সদস্য আলিফ, রাদসহ আরও অনেকে। তারা জানান, ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এমন পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।











