আটোয়ারীর বড়দাপ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসির রেজিস্ট্রেশন ফি’তে বিদ্যুৎ বিলসহ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বড়দাপ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি’র সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত বছরে এক বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে নির্ধারিত বোর্ড ফি’র বাইরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে। এই অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল, উন্নয়ন খাত ও অন্যান্য অস্পষ্ট খাত উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক অভিভাবক দাবি করেছেন, এসব খাতের কোনো লিখিত নোটিশ বা স্বচ্ছ হিসাব তাদের দেখানো হয়নি।
আরো জানা গেছে, গত বছরে এক বিষয়ে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীর কাছে রেজিষ্ট্রেশন বাবদ মোট ১৩০০ টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র রায়৷ রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায়ের রশিদ অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর কাছে বোর্ড ফি-২১৫, রেজিষ্ট্রেশন ফি-৫১৫, বিদ্যুৎ বিল-১০০ এবং বিবিধ বাবদ-৫০০ টাকাসহ মোট ১৩৩০ টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র রায়।
আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী যারা ইতোপূর্বে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তাদের জন্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী বলা হয়েছে পরীক্ষার ফি-১২৫, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি-৮০, অনিয়মিত ফি-১০০, স্কাউট ফি-২৫, গার্লস গাইট ফি-১৫ এবং সকল প্রকারের পরীক্ষার্থী যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই জন প্রতি আরো ৪০০ টাকা সহ মোট ৭৪৫ টাকা আদায় করা যাবে। বিজ্ঞপ্তীতে আরো উল্লেখ আছে যে, উল্লেখিত ফি এর অতিরিক্ত ফি কোনোভাবেই আদায় করা যাবেনা৷ এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, যারা গত বছরে ২/১ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ফি’র বাইরে টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে প্রধান শিক্ষক। একেক জনের কাছ থেকে ১৩’শো থেকে ১৫’শো টাকা নেওয়া হয়েছে। না দিলে পরীক্ষা না দিতে দেওয়ারও কথা বলেছেন তিনি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করেছি।
এ বিষয়ে এক অভিভাবক বলেন, “সরকার যেখানে নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ বিল বা অন্যান্য খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। এতে সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে চরম বিপাকে পড়ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়দাপ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, “তাদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে সেটা সত্যি। রেজিষ্ট্রেশন ফি’র সাথে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিলের জন্য টাকা নেওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হয়েছে এটা আমাদের নিয়মে রয়েছে। তাই নেওয়া হয়েছে। আর বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত বিবিধ বাবদ-৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সেই টাকা নেওয়া হয়েছে কারণ, তাকে পরীক্ষায় প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্য। সে যেন ভালো ভাবে পরীক্ষা দিতে পারে এ বিষয়ে তাকে প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।” তবে বোর্ডের নীতিমালার সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক কি না—এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।
এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুল কবির মোঃ কামরুল হাসান বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যদি কোনো বিদ্যালয় অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দ্রুত তদন্ত করে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।








