কাবার আদলে তৈরি ইসলাম বিরোধী আস্তানা ভেঙে গুড়িয়ে ও পুড়িয়ে দিলো তৌহিদি জনতা, ইসলাম কি বলে?
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কুখ্যাত ভণ্ড ও যিন্দিক নুরাল পাগলার কবরকে কেন্দ্র করে তৈরি ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তৌহিদি জনতা। শুক্রবার গভীর রাতে জনতা কাবার আদলে নির্মিত ভণ্ডামির সেই আস্তানা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এবং লাশ উত্তোলন করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে।
নুরাল পাগলার ভ্রান্ত দাবিগুলো
নুরাল পাগল জীবদ্দশায় একাধিক ভয়াবহ বিভ্রান্তি ছড়ায় নিজেকে ইমাম মাহদী ঘোষণা করে।
পবিত্র কোরআনকে ভুজপাতা (মূল্যহীন) আখ্যা দেয়।
নতুন কালেমা চালু করে: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মাহদী রাসূলুল্লাহ।”
নামাজ-রোজা রহিত ঘোষণা করে।
মৃত্যুর পর নিজের কবরকে কাবার আদলে নির্মাণ ও তাওয়াফ করার অসিয়ত করে যায়।
দাফনের সময় শরীয়তবিরোধীভাবে তাকে দক্ষিণ-উত্তরমুখী করে শোয়ানো হয়।
তার অনুসারীরা মৃত্যুর পর শুক্রবারে তার কবরকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজ আদায় করে, এমনকি জানাযায় ৬ তাকবীর পড়ার মতো বিদআত চালু করে। এসব কর্মকাণ্ড মুসলিম সমাজে ভয়াবহ বিভ্রান্তি ও আকীদাহ সংকট তৈরি করেছিল।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় আলেম-ওলামা ও জনপ্রতিনিধিরা বারবার আপত্তি জানালেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রশাসনের নীরবতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই সাধারণ তৌহিদি জনতা উত্তেজিত হয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও হাদিসের রেফারেন্স
ইসলামের মৌলিক বিধান অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সুস্পষ্টভাবে আকীদাহ-বিধ্বংসী বক্তব্য দেয় ও বিভ্রান্তি ছড়ায়, তার জন্য মুসলিম কবরস্থানে সম্মানজনক দাফনের স্থান নেই। হক্কানি আলেমরা মত দেন, যদি তার লাশ কবরেই রাখা হতো, ভবিষ্যতে সেটিকে কেন্দ্র করে পূজার আসর গড়ে উঠত। এজন্য তৌহিদি জনতা লাশ উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেয়।
হাদিসে এ ধরনের বিদআতী ও শিরক কেন্দ্র ধ্বংস করার দৃষ্টান্তও পাওয়া যায়—
রাসূল ﷺ সাহাবীদের পাঠিয়েছিলেন ইয়েমেনে অবস্থিত যুল-খালাসা নামক ভণ্ড মাজার ধ্বংস করতে, যাকে “ইয়েমেনের কাবা” বলা হতো।
বুখারী (হাদিস ৪৩৫৫), মুসলিম (হাদিস ২৪৭৬)
সাহাবি জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) বলেন:
“রাসূল ﷺ আমাকে যুল-খালাসা ধ্বংস করতে পাঠান। আমি দেড়শ অশ্বারোহী নিয়ে সেটি গুড়িয়ে দিয়েছিলাম।” (বুখারী, হাদিস ৪৩৫৫)
অন্যদিকে, হযরত আলী (রা.) একদল রাফেযী মুরতাদকে আগুনে শাস্তি দিয়েছিলেন। ইবনু আব্বাস (রা.) এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও ঘটনাটি প্রমাণ করে—কখনো কখনো বিশেষ পরিস্থিতিতে আগুন ব্যবহার করে বিদআত দমন করা হয়েছিল।
বুখারী (হাদিস ৬৯২২)
তবে আলেমরা মনে করিয়ে দেন—নুরাল পাগলার লাশ দাহ করা সরাসরি শরীয়াহ সম্মত নয়; বরং এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে পূজার আসর ঠেকানো।
মাজার নয়, ইসলাম ধ্বংসের আস্তানা
তৌহিদি জনতা অভিযোগ করে, মিডিয়া বিভ্রান্তিকরভাবে এসব আস্তানাকে “মাজার” আখ্যা দিয়ে প্রচার করছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এগুলো মাজার নয়, বরং ইসলাম ধ্বংসের আখড়া। দেশে হিন্দুদের মন্দির, খ্রিস্টানদের চার্চ নিয়ে কোনোদিন মুসলমানরা ক্ষোভ প্রকাশ করেনি। কিন্তু ইসলামি আকীদাহ বিকৃত করে কাবার আদলে নতুন ধর্মীয় আস্তানা বানানো কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়।
তৌহিদি জনতা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—
“অমুসলিমদের উপাসনালয় নিয়ে মুসলমানদের আপত্তি নেই। কিন্তু মুসলিম নামের ভণ্ডরা ইসলাম বিকৃত করলে, কাবার আদলে নতুন কাবা বানিয়ে শিরক প্রচার করলে সেটা কখনো সহ্য করা হবে না।”











