শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

কাবার আদলে তৈরি ইসলাম বিরোধী আস্তানা ভেঙে গুড়িয়ে ও পুড়িয়ে দিলো তৌহিদি জনতা, ইসলাম কি বলে?

মুফতী জাহিদ নুমানী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২০ পিএম
কাবার আদলে তৈরি ইসলাম বিরোধী আস্তানা ভেঙে গুড়িয়ে ও পুড়িয়ে দিলো তৌহিদি জনতা, ইসলাম কি বলে?

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কুখ্যাত ভণ্ড ও যিন্দিক নুরাল পাগলার কবরকে কেন্দ্র করে তৈরি ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তৌহিদি জনতা। শুক্রবার গভীর রাতে জনতা কাবার আদলে নির্মিত ভণ্ডামির সেই আস্তানা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এবং লাশ উত্তোলন করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে।

নুরাল পাগলার ভ্রান্ত দাবিগুলো

নুরাল পাগল জীবদ্দশায় একাধিক ভয়াবহ বিভ্রান্তি ছড়ায় নিজেকে ইমাম মাহদী ঘোষণা করে।

পবিত্র কোরআনকে ভুজপাতা (মূল্যহীন) আখ্যা দেয়।

নতুন কালেমা চালু করে: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মাহদী রাসূলুল্লাহ।”

নামাজ-রোজা রহিত ঘোষণা করে।

মৃত্যুর পর নিজের কবরকে কাবার আদলে নির্মাণ ও তাওয়াফ করার অসিয়ত করে যায়।

দাফনের সময় শরীয়তবিরোধীভাবে তাকে দক্ষিণ-উত্তরমুখী করে শোয়ানো হয়।

তার অনুসারীরা মৃত্যুর পর শুক্রবারে তার কবরকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজ আদায় করে, এমনকি জানাযায় ৬ তাকবীর পড়ার মতো বিদআত চালু করে। এসব কর্মকাণ্ড মুসলিম সমাজে ভয়াবহ বিভ্রান্তি ও আকীদাহ সংকট তৈরি করেছিল।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় আলেম-ওলামা ও জনপ্রতিনিধিরা বারবার আপত্তি জানালেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রশাসনের নীরবতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই সাধারণ তৌহিদি জনতা উত্তেজিত হয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও হাদিসের রেফারেন্স

ইসলামের মৌলিক বিধান অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সুস্পষ্টভাবে আকীদাহ-বিধ্বংসী বক্তব্য দেয় ও বিভ্রান্তি ছড়ায়, তার জন্য মুসলিম কবরস্থানে সম্মানজনক দাফনের স্থান নেই। হক্কানি আলেমরা মত দেন, যদি তার লাশ কবরেই রাখা হতো, ভবিষ্যতে সেটিকে কেন্দ্র করে পূজার আসর গড়ে উঠত। এজন্য তৌহিদি জনতা লাশ উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেয়।

হাদিসে এ ধরনের বিদআতী ও শিরক কেন্দ্র ধ্বংস করার দৃষ্টান্তও পাওয়া যায়—

রাসূল ﷺ সাহাবীদের পাঠিয়েছিলেন ইয়েমেনে অবস্থিত যুল-খালাসা নামক ভণ্ড মাজার ধ্বংস করতে, যাকে “ইয়েমেনের কাবা” বলা হতো।

 বুখারী (হাদিস ৪৩৫৫), মুসলিম (হাদিস ২৪৭৬)

 সাহাবি জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) বলেন:

“রাসূল ﷺ আমাকে যুল-খালাসা ধ্বংস করতে পাঠান। আমি দেড়শ অশ্বারোহী নিয়ে সেটি গুড়িয়ে দিয়েছিলাম।” (বুখারী, হাদিস ৪৩৫৫)

অন্যদিকে, হযরত আলী (রা.) একদল রাফেযী মুরতাদকে আগুনে শাস্তি দিয়েছিলেন। ইবনু আব্বাস (রা.) এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও ঘটনাটি প্রমাণ করে—কখনো কখনো বিশেষ পরিস্থিতিতে আগুন ব্যবহার করে বিদআত দমন করা হয়েছিল।

 বুখারী (হাদিস ৬৯২২)

তবে আলেমরা মনে করিয়ে দেন—নুরাল পাগলার লাশ দাহ করা সরাসরি শরীয়াহ সম্মত নয়; বরং এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে পূজার আসর ঠেকানো।

মাজার নয়, ইসলাম ধ্বংসের আস্তানা

তৌহিদি জনতা অভিযোগ করে, মিডিয়া বিভ্রান্তিকরভাবে এসব আস্তানাকে “মাজার” আখ্যা দিয়ে প্রচার করছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এগুলো মাজার নয়, বরং ইসলাম ধ্বংসের আখড়া। দেশে হিন্দুদের মন্দির, খ্রিস্টানদের চার্চ নিয়ে কোনোদিন মুসলমানরা ক্ষোভ প্রকাশ করেনি। কিন্তু ইসলামি আকীদাহ বিকৃত করে কাবার আদলে নতুন ধর্মীয় আস্তানা বানানো কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়।

তৌহিদি জনতা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—

 “অমুসলিমদের উপাসনালয় নিয়ে মুসলমানদের আপত্তি নেই। কিন্তু মুসলিম নামের ভণ্ডরা ইসলাম বিকৃত করলে, কাবার আদলে নতুন কাবা বানিয়ে শিরক প্রচার করলে সেটা কখনো সহ্য করা হবে না।”

সরিষাবাড়ীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসাসেবা পেলেন শতশত রোগী

স্বপন মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি:  প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
সরিষাবাড়ীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসাসেবা পেলেন শতশত রোগী

‘সবার আগের বাংলাদেশ ধানের শীষে আস্থা অশেষ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা প্রায় ৩ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা বালুর মাঠে ‘ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ড্যাব) জেলা শাখার আয়োজনে এবং জেলা বিএনপির সহযোগীতায় এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন- জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সরিষাবাড়ী আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। 

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) জেলা শাখার সমন্বয়ক এবং নাক, কান, গলা ও হেডনেক বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ মোঃ কামরুল হাসানের এর সার্বিক পরিচালনায় ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আজিম উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা খান উজ্জ্বল, সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী, উপজেলার বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাবলু, ডোয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, যুবদলের সভাপিত সালে আকরাম পল্লব, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি লিটন মিয়া প্রমুখ। 

এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা ডাঃ দেবাশীষ রাজ বংশী, মেডিকেল অফিসার ডাঃ রবিউল ইসলাম, ডাঃ তরিকুল ইসলাম রনি সহ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, বক্ষবিধি বিশেষজ্ঞ, দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ, নাক-কান, গলা বিশেষজ্ঞ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ, অর্থ সার্জারি, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ১০জন ডাক্তার এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে ঔষুধ বিতরণ করা হয়।

আয়োজক বৃন্দরা বলেন, ‘আসছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে এই রকম ফ্রি চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত রাখা হবে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা বলেন, ‘বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আমাদের মত গরীব মানুষে টাকা খরচ করে চিকিৎসা গ্রহণ করা খুব কষ্টের। আমার চাই প্রতি মাসে মাসে এমন ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

এবারের একটা ভোট একটা ইতিহাস তৈরি করবে- নওশাদ জমির

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
এবারের একটা ভোট একটা ইতিহাস তৈরি করবে- নওশাদ জমির

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেছেন এবারে নির্বাচন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করার নির্বাচন। আমাদেরকে এমন একজনকে নির্বাচন করতে হবে যে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই এবারের একটা ভোট একটা ইতিহাস তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারী) রাতে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

নওশাদ জমির বলেন, “তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সরকার নির্বাচিত হওয়ার পরে ২৫ কোটি গাছ রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। অসহায় দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে আমরা কাজ করে যাব। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা মানুষের সহায়তা করব। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এলাকার রাস্তাঘাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সার্বিক উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাব”।

তিনি বলেন, “এর আগে যেমন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের বাচ্চাদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল ঠিক তেমনি আমরা এই কার্ডের মাধ্যমে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করতে পারব। এই কার্ডের মাধ্যমে মানুষ তাদের সুচিকিৎসা পাবে। যারা অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে পারে না তারা ফ্রিতে চিকিৎসা পাবেন। অর্থাৎ আমরা ‘বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু না’ এই স্লোগানকে নিয়ে কাজ করতে চাই। যারা পঞ্চগড়-১ আসনের মানুষ রয়েছেন আমরা চাইবো কেউ যেন অর্থাভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ না করে। এটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি”।

নওশাদ জমির আরো বলেন, “আমাদের সমাজে যারা বেকার যুবক রয়েছে তাদেরকে কারিগরি এবং ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে জনশক্তিতে রুপান্তরিত করব। বেকার সমস্যার সমাধান করার জন্য আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে গিয়ে কাজ করুক। দেশের জন্য রেমিটেন্স যোদ্ধা তৈরি হোক। যদি কেউ কোন দেশের ভাষায় পারদর্শী না হয় তাহলে বিদেশে গিয়ে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়। পৃথিবীর যেকোনো দেশেই তারা যাক না কেন ভাষাটা যদি জানা থাকে তাহলে কাজ করতে সুবিধা হবে। আর ভাষা যদি না জানা থাকে তাহলে অনেক সমস্যা হয়। তাই আমরা চেষ্টা করব বেকারত্ব দূর করার জন্য প্রত্যেকটা ছেলে মেয়েকে বিদেশি ভাষায় দক্ষ করতে। যারা যে দেশের ভাষা আয়ত্ত করতে পারবে তাকে সেই দেশে পাঠিয়ে দেশ রেমিটেন্স আয় করবে। আমরা চেষ্টা করব পঞ্চগড়-১ আসনের প্রত্যেকটা বাড়ি থেকে একটি করে ছেলে মেয়ে বিদেশে পাঠিয়ে বেকারত্ব দূর করে নিজের এবং সমাজের যেন পরিবর্তন ঘটাতে পারে”।

এসময় তোড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আটোয়ারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব কুদরত-ই-খুদা, সাবেক সদস্য আব্দুর রহমান আব্দার, আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউজ্জামান মানিক, বাবুল হোসেন, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাসুদ পারভেজ, তোড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক মাহফুজার রহমান মেডেল সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

জিল্লুর হোসেন সরকার, ষ্টাফ রির্পোটার: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৫ এম
আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে’ উৎসব ও আনন্দঘন পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রাণবস্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টায় বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রধান অতিথি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেখাপড়ার পাশাপাশি এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে জন্য এসব খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুশের সভাপতিত্বে এবং শরীর চর্চা শিক্ষক জরিফ হোসেন চৌধুরী মনি ও সহকারী শিক্ষক তারামহন বর্মনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রেজাউন-নবি-রাজা, উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আটোয়ারী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জিল্লুর হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মনোজ রায় হিরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ রায়হান চৌধুরী রকি, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম প্রমুখসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, অবিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা নৃত্য, গান, আবৃত্তি ও নাটিকা পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে করতালি ও আনন্দধ্বনিতে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। সার্বিকভাবে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এক উৎসবমুখর পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।