সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

আটোয়ারীতে মামা শ্বশুড় কর্তৃক নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিচারের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৯ এম
আটোয়ারীতে মামা শ্বশুড় কর্তৃক নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিচারের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে প্রতিবেশীর এক মামা শ্বশুড়ের বিরুদ্ধে অসহায় এক নারীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে ভুক্তভোগী ওই নারী আটোয়ারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী সংসারের খরচ যোগাতে প্রায় সময় বাড়ির বাহিরে দিন মজুরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এঅবস্থায় সুযোগ সন্ধানী নারী লোভী হাসান আলী (৩৫) নামের এক প্রতিবেশী ওই নারীর ওপর লোলুপ দৃষ্টি পরে।

একপর্যায়ে স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে বুঝে ভুক্তভোগীকে বাড়িতে একা পেয়ে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাবে দিয়ে আসছিলেন। নারী লোভী ওই ব্যক্তি হলেন উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের ডুংডুংগী দাড়খোর গ্রামের মসলিম উদ্দিনের ছেলে হাসান আলী (৩৫)।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে ওই নারীর স্বামীর অনুপস্থিতিতে সম্পর্কে মামা শ্বশুর হাসান আলী তার বাড়িতে গিয়ে ওই নারীর হাত ধরে জোরপূর্বক বাড়ির পার্শ্বে টিউবওয়েল পাড়ে নিয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নির্যাতন করে। এসময় ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়ি ফিরে ঘরে স্ত্রীকে না পেয়ে টিউবওয়েল পাড়ে খুঁজতে গিয়ে হাতেনাতে হাসান আলীকে আটক করে।

এসময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে হাসান আলী দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার বিবরণীতে আরো জানা যায়, গত দুই মাস ধরে হাসান আলী ওই নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখাতো। প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে মামা শ্বশুড় হওয়ার সুবাদে হাসান আলী কারণে অকারণে তাদের বাড়িতে অবাধে যাওয়া-আসা করতো। এই সম্পর্কের রেশ ধরে বিভিন্ন সময় তাকে অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন তিনি।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালাতো। ওই নারী বাধা দিলে তাকে ভয়ভীতি ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা যায়। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যাক্তি সম্পর্কে মামা শ্বশুর হওয়ায় এবং সম্মানহানীর ভয়ে কথাগুলো গোপন রেখেছিলেন বলে দাবী ওই ভুক্তভোগী নারীর।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান আলী লাপাত্তা হয়েছেন। এবিষয়ে তার বাবা মসলিম উদ্দিন বলেন, ‘তার ছেলের বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা এবং বানোয়াট। তিনি দাবি করে বলেন, ‘অভিযোগকারী ওই নারীর স্বামী আমাদের বাসায় কাজ করে সংসার চালাতো। আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য তারা এমন অপবাদ দিচ্ছে। তারা তাদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন জঘন্য অভিযোগ তুলেছে।

এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, ওই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে নারীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়:: সরিষাবাড়ীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি 

স্বপন মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়:: সরিষাবাড়ীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি 

ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নে অবস্থিত ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করা হয়।

জানা যায়, আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় মোট পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিতায় ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সবুজায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, এডক কমিটির সদস্য কামরুজামান লিটন, ডোয়াইল যুবদল নেতা তোফাজ্জল হোসেন, ডোয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি লিটন মিয়া, ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মুন্নাফ, ভাস্কর পুর্দ্দার, আনোয়ার হোসেন, হারুন-অর রশিদ ও আঃ রহমানসহ সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দরা। 

এ সময় তারা বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বৃক্ষ তুলে দিবো। তারা তাদের বসতবাড়িতেও বৃক্ষরোপণ করে সুবজ পরিবেশ সৃষ্টি করবে এই দেশে।

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মা লেবেল অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান সোহেল

ত্রিশালে জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:১০ পিএম
ত্রিশালে জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু

নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া এলাকায় অবস্থিত জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা-য় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, আদব-আখলাক এবং যুগোপযোগী শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে সীমিত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, নূরানী, হিফজ ও কিতাব বিভাগসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক মণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে কুরআন-হাদিস, ইসলামী শিক্ষা, চরিত্র গঠন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন, নিয়মিত পাঠদান, দৈনিক আমল-আখলাক চর্চা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সমন্বিত দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসার মুহতামিম বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আলোকিত ও নৈতিক প্রজন্ম গঠনে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মা লেবেল অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান সোহেল বলেন, “দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আগ্রহী অভিভাবকদের দ্রুত যোগাযোগ করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, এলাকায় মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষার ক্ষেত্রে জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা ইতোমধ্যে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষেও বিপুলসংখ্যক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

আটোয়ারীতে ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও ভাসুর

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
আটোয়ারীতে ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও ভাসুর

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে এক ভাসুর উধাও যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও হওয়া ভাসুরের নাম রফিকুল ইসলাম (৪২)। তিনি উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পল্লি বিদ্যুৎ কনপাড়া গ্রামের হাকিম উদ্দিনের ছেলে। নিজের চাচাতো ভাই আবু তাহেরের বউকে নিয়ে পরকীয়ার জেরে উধাও হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। গত সোমবার থেকে তারা উধাও হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারটির।

স্থানীয়রা জানান, বড় ভাই রফিকুল আর ছোট ভাই আবু তাহেরের বাড়ি পাশাপাশি। একসাথে বাড়ি হওয়ায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও হওয়া রফিকুল ৩ সন্তান বাবা অপরদিকে রফিকুলের সাথে পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূও ৩ সন্তানের মা। দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে তারা গত সোমবার পালিয়ে গেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার সুযোগ বুঝে ভাসুর ওই গৃহবধূকে নিয়ে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। এরপর থেকে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টির আইনগত সমাধান এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান তাঁর জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। তারা পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।