সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

আটোয়ারীতে এফিডেভিট বিয়েতে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৯ এম
আটোয়ারীতে এফিডেভিট বিয়েতে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়

কোর্ট ম্যারেজ বা এফিডেভিট বিয়ে কি সত্যিই বৈধ বিয়ে হয়? এক কথায় উত্তরে বলা যায়, ‘না’। পৃথিবীর কোনো ধর্মেই কোর্ট ম্যারেজ বা এফিডেভিট বিয়ে আইনগত ভাবে কোন ভিত্তি নেই। এটি লোকমুখে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ মাত্র। মূলত বিয়ের কাবিননামাই হলো বিয়ের মূল চুক্তিপত্র। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্মতিতে এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আচার ও রীতিনীতি মেনে একটি বৈধ সম্পন্ন হয়। এরপর বিবাহ রেজিস্টার বা কাজী আইন অনুযায়ী এই বিয়ের নিবন্ধন করলেই আইনগতভাবে আর কোন ত্রুটি থাকে না। আর কোর্ট ম্যারেজ হলো এফিডেভিট বা বিয়ের ঘোষণা মাত্র। কিন্তু এভিডেভিট আদৌ কোনো বিয়ে নয়।

এছাড়াও অনেক দেশে (যেমন বাংলাদেশে) আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো বা নিবন্ধন করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একটি হলফনামা যেখানে কোনো ব্যক্তি শপথ করে কোনো সত্য ঘটনা নিশ্চিত করেন, যেমন বিবাহের অঙ্গীকার। যদিও এফিডেভিট অনেক ক্ষেত্রে বিবাহের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি নিজেই একটি আইনি বিবাহ নয় এবং এর মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো বা নিবন্ধন করা নিষিদ্ধ। এটি সাধারণত নাম, বয়স বা ঠিকানার মতো তথ্য সংশোধনের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং বিবাহ সংক্রান্ত হলফনামা শুধু একটি ঘোষণা মাত্র, কিন্তু আইনগতভাবে এফিডেভিট একটি বৈধ বিবাহ প্রমাণ করে না।

কিন্তু বর্তমান সময়ে সমাজে দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিকের গন্ডি পাড় না হতেই অনেক ঊর্তি বয়সের ছেলেমেয়েরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও বয়ঃসন্ধিকালের ধারা পাড় না হতেই করে ফেলছে নানা ধরনের অপরাধ। এমনকি নানা অসামাজিক কার্যকলাপে তারা জড়িয়ে পড়ছে। শেষমেশ প্রেমের সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে অনেক ছেলেমেয়ে কোর্টের দারস্থ হচ্ছে। কয়েকজন বন্ধু বান্ধবের সাহায্য নিয়ে অবিভাবকদের অজান্তেই কোর্ট ম্যারেজ বা এফিডেভিট করে নিচ্ছে। সেখানে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- অনেক সময় দেখা গেছে, মাধ্যমিকের গন্ডি পাড় না হওয়া সেই ছেলেমেয়েদের জন্ম নিবন্ধনের সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই না করে সংশ্লিষ্ট শনাক্তকারী আইনজীবী তাদের এফিডেভিট করে দিচ্ছেন। অথচ এফিডেভিট যদিও বিয়ে নয় তারপরও সেটা করার সময় উভয়ের জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর অত্যাবশ্যকীয় কাজ। কিন্তু অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছেনা। ফলে দিনশেষে দেখা যায়, ওই মেয়েটি ছেলের বাসায় স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে সে-ই এফিডেভিটের কাগজ নিয়ে ছেলের বাসায় অনশন করে। যার কারণে সমাজের মধ্যে বাড়ছে জটিলতা, বিশৃঙ্খলা ও চরম অবক্ষয়। এছাড়াও সমাজের প্রভাবশালী কিছু দলীয় লোকজন তৃতীয় পক্ষ হয়ে ওই বিষয়গুলো অর্থের বিনিময়ে সমাধানের চেষ্টা করে অথবা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। আর এই অর্থের বিনিময়ের জন্য বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছেলেমেয়ের উভয়ের পরিবার।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ১৫ বছর বসয়ী এক ছেলের বাসায় ২১ বছর বয়সী এক মেয়ের অনশনের ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জানা যায়, উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের ঝাকোয়াপড়া গ্রামের সুবাস বর্মণের ছেলে নয়ন বর্মণ (১৫) এর বাসায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও জেলার লাহিড়ী ইউনিয়নের ২১ বছর বয়সী এক মেয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে অনশন করে। সাথে নিয়ে এসেছেন গত (২৪ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টে করা এক এফিডেভিটের কাগজ আর হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে একটা ফি আদায়ের রশিদ। যদিও তাদের বিয়েটা কোনো বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছে রেজিস্ট্রি করা হয়নি। এদিকে সে-ই মেয়ের আসার খবর পেয়ে বাড়ি থেকে লাপাত্তা হয়েছে নয়ন বর্মণ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মেয়ের সাথে কথা বললে জানা যায়, গত চার মাস পূর্বে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে৷ সেই থেকে ফেসবুক মেসেঞ্জার আর ইমুতে নিয়মিত কথা বলা সহ বিভিন্ন সময় ঘুরতে যাওয়া হতো তাদের। সেই সম্পর্কের জের ধরে গত (২৪ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টে গিয়ে এফিডেভিট করে দুজনেই। সেখানে নয়ন বর্মণের বয়স দেওয়া হয় ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স দেওয়া হয় ১৯ বছর। প্রকৃতঅর্থে, জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী নয়নের জন্ম ২০১০ সালে এবং মেয়ের জন্ম ২০০৫ সালে। এছাড়াও তার কাছে থাকা হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে ফি আদায়ের রশিদে দেখা যায়, শুধু মাত্র মেয়ের নাম-ঠিকানা লিখা একটি কাগজ। সেখানে কোনো ছেলের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ্য করা নাই। যদিও ফি আদায়ের রশিদে বর ও কনে পক্ষের উভয়ের নাম উল্লেখ্য থাকার কথা ছিল।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সেই হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার সুধীর চন্দ্র সিংহের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোর্টের এফিডেভিটের কাগজ অনুযায়ী গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছেলেমেয়েদের উপযুক্ত বয়স হয়েছে কিনা এবং তাদের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ দেখে তিনি বিয়ে দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আসলে মেয়েটা আমাদের এলাকার তো তাই কাজটা তারাতাড়ি হয়ে গেছে। মেয়ের বাবা এসে শুধু ফি আদায়ের রশিদটা নিয়ে গেছে। আর ছেলেমেয়ের সঠিক বয়স কত সেটা আমার জানা নাই। কারণ আমি কোর্টের এফিডেভিটের কাগজ দেখে আমার রেজিস্ট্রার খাতায় তাদের নাম ঠিকানা লিখেছি।

এফিডেভিটের বিষয় শনাক্তকারী আইনজীবী অনিমেস চন্দ্র মুনি জানান, এফিডেভিট কোনো বিয়ে নয়৷ সেটা কেবলমাত্র ঘোষণা পত্র। তারা আমাদের কাছে এসে নিজ নিজ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন এবং আমরা তা লিখেছি। তাদের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ ছাড়া কিভাবে এফিডেভিট করে দেওয়া যায় এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তারা আমাদের কাছে এসে শুধু নিজেদের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন এবং আমরা তাই ঘোষণা পত্রে উল্লেখ্য করেছি। নিজেদের ঘোষণা তারা নিজেরাই দিয়েছে সেক্ষেত্রে কোনো কাগজপত্র দরকার হয়নি।
এ নিয়ে নয়ন বর্মণের বাবা সুবাস বর্মণ জানান, আমার ছেলের সাথে ওই মেয়ের যোগাযোগ ছিল সত্যি। তাদের মধ্যে কথাবার্তাও হতো। কিন্তু আমার ছেলের বয়স মাত্র ১৫ বছর। আর ওই মেয়ের বয়স ২১ বছর। তারা যদি কোর্টে এফিডেভিট করেও থাকে তাহলে সেখানে কেন আমার ছেলের বয়স ২১ দেখানো হল। আর মেয়ের বয়স মাত্র ১৯ দেখানো হল। কেন ছেলের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ ছাড়াই উকিলরা সেটা করল। তারমানে মেয়ের পক্ষ সব কিছু পরিকল্পিত ভাবে করেছে৷ তা না হলে কেন ছেলের বিস্তারিত না জেনে বয়স বাড়িয়ে এফিডেভিট করা হলো এবং মেয়ের বয়স কমানো হলো। কিন্তু এফিডেভিট তো কোনো বিয়ে নয়। এছাড়াও কোনো হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছেও তাদের বিয়ে হয়নি। জোর করে আমার ছেলেকে দিয়ে শাখা-সিঁদুর পড়ানো হয়েছে।

এফিডেভিটের বিষয়ে পঞ্চগড় কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মাসুদ পারভেজ বলেন, এফিডেভিট কোনো বিয়ে নয়। এটা কেবলমাত্র একটি ঘোষণাপত্র৷ তারপরও এফিডেভিটের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর কাছে উপযুক্ত তথ্য ও প্রমাণাদি অত্যাবশ্যকীয়। যদি ছেলেমেয়ের এফিডেভিট করা হয় তাহলে অবশ্যই তাদের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ সহ সব কিছু সঠিকভাবে যাচাই করে এভিডেভিট দিতে হবে।

ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়:: সরিষাবাড়ীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি 

স্বপন মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়:: সরিষাবাড়ীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি 

ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নে অবস্থিত ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করা হয়।

জানা যায়, আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় মোট পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিতায় ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সবুজায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, এডক কমিটির সদস্য কামরুজামান লিটন, ডোয়াইল যুবদল নেতা তোফাজ্জল হোসেন, ডোয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি লিটন মিয়া, ডোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মুন্নাফ, ভাস্কর পুর্দ্দার, আনোয়ার হোসেন, হারুন-অর রশিদ ও আঃ রহমানসহ সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দরা। 

এ সময় তারা বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বৃক্ষ তুলে দিবো। তারা তাদের বসতবাড়িতেও বৃক্ষরোপণ করে সুবজ পরিবেশ সৃষ্টি করবে এই দেশে।

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মা লেবেল অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান সোহেল

ত্রিশালে জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:১০ পিএম
ত্রিশালে জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু

নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া এলাকায় অবস্থিত জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা-য় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, আদব-আখলাক এবং যুগোপযোগী শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে সীমিত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, নূরানী, হিফজ ও কিতাব বিভাগসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক মণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে কুরআন-হাদিস, ইসলামী শিক্ষা, চরিত্র গঠন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন, নিয়মিত পাঠদান, দৈনিক আমল-আখলাক চর্চা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সমন্বিত দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসার মুহতামিম বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আলোকিত ও নৈতিক প্রজন্ম গঠনে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মা লেবেল অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান সোহেল বলেন, “দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আগ্রহী অভিভাবকদের দ্রুত যোগাযোগ করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, এলাকায় মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষার ক্ষেত্রে জামি’আ সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা ইতোমধ্যে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষেও বিপুলসংখ্যক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

আটোয়ারীতে ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও ভাসুর

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
আটোয়ারীতে ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও ভাসুর

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে এক ভাসুর উধাও যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও হওয়া ভাসুরের নাম রফিকুল ইসলাম (৪২)। তিনি উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পল্লি বিদ্যুৎ কনপাড়া গ্রামের হাকিম উদ্দিনের ছেলে। নিজের চাচাতো ভাই আবু তাহেরের বউকে নিয়ে পরকীয়ার জেরে উধাও হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। গত সোমবার থেকে তারা উধাও হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারটির।

স্থানীয়রা জানান, বড় ভাই রফিকুল আর ছোট ভাই আবু তাহেরের বাড়ি পাশাপাশি। একসাথে বাড়ি হওয়ায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে উধাও হওয়া রফিকুল ৩ সন্তান বাবা অপরদিকে রফিকুলের সাথে পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূও ৩ সন্তানের মা। দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে তারা গত সোমবার পালিয়ে গেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার সুযোগ বুঝে ভাসুর ওই গৃহবধূকে নিয়ে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। এরপর থেকে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টির আইনগত সমাধান এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান তাঁর জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। তারা পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।