শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আটোয়ারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম, জড়িত খোদ অফিসারাই

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
আটোয়ারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম, জড়িত খোদ অফিসারাই

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত টাকা আদায়, দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে অফিসটিকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি দালাল চক্র।

ভুক্তভোগীরা জানান, নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, জমির পর্চা সংশোধন, রেকর্ড যাচাইসহ বিভিন্ন কাজে অফিসে গেলেই প্রথমে দালালদের মুখোমুখি হতে হয়। অফিসের সামনের চায়ের দোকান ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেওয়া এসব দালাল সাধারণ মানুষকে ঘিরে ধরে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে অফিসের ভেতরে থাকা পেসকার আল আমিন ও রেকর্ড কিপার জুলফিকার আলি ভুট্টুর সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক প্রথমে নিজেই ছদ্মবেশে সেবাগ্রহীতা হিসেবে আটোয়ারী উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে যায়। গিয়ে অফিসের রেকর্ড কিপার জুলফিকার আলি ভুট্টুর কাছে একটি খতিয়ানের কপি সহ কিছু কাগজপত্র তোলার জন্য কথাবার্তা বলেন। এসময় একটি খতিয়ানের কপির জন্য তিনি ৫ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত পাঁচশো টাকা চেয়ে বসেন।

একইভাবে অফিসের পেশকার মোঃ আল-আমিনের কাছে অন্য একটি খতিয়ানের কপি এবং কিছু কাগজপত্র চাওয়া হলে তিনিও ৫ হাজার টাকা সহ অতিরিক্ত পাঁচশো টাকা চেয়ে বসেন।

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, বিভিন্ন অজুহাতে বারবার ঘোরানো কিংবা কাগজপত্রে ভুল ধরার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আমি জমির একটি রেকর্ড সংশোধনের জন্য অফিসে গিয়েছিলাম। পরে এক দালাল এসে বলে দ্রুত কাজ করতে হলে আলাদা খরচ লাগবে। রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন ধরে আমাকে ঘুরানো হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী জানান, “অফিসে সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা কঠিন। দালাল ছাড়া যেন কোনো কাজই হয় না। অফিসের ভেতরের লোকজনের সহায়তা না থাকলে তারা এত প্রভাব বিস্তার করতে পারতো না।”

সরকারি অফিসে দালাল চক্রের এমন দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে আটোয়ারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অফিসে কোনো দালাল নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে প্রতারণা করলে সেটির দায় অফিস নেবে না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাদাযুক্ত রাস্তা চলাচল উপযোগী করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবলু

জহিরুল ইসলাম মিলন (ধনবাড়ী) টাংগাইল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম
কাদাযুক্ত রাস্তা চলাচল উপযোগী করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবলু

টাংগাইলে ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়াডের ধোকেরকুল গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হলো। গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে নিজস্ব অর্থায়নে কাদা-মাটিতে বেহাল রাস্তাটি সংস্কার করে দিয়েছেন পাইস্কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাইস্কা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবলু।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধোকেরকুল গ্রামের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা এবং যাতায়াতের অযোগ্য ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে কাদা জমে সাধারণ মানুষের চলাচল স্থবির হয়ে পড়ত। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু এবং রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিষয়টি নজরে আসার পর, এলাকাবাসীর কষ্টের কথা চিন্তা করে নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি সংস্কারের দায়িত্ব নেন মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবলু।

রাস্তা সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় ধোকেরকুল গ্রামের জনগণের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “অনেকদিন ধরে আমরা এই রাস্তাটি নিয়ে চরম দুর্ভোগে ছিলাম। কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। শফিকুল ইসলাম বাবলু ভাই নিজের টাকা খরচ করে রাস্তাটি যাতায়াতের উপযোগী করে দিয়েছেন। আমরা তার এই মানবিক কাজের জন্য কৃতজ্ঞ।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবলু জানান: জনগণের সেবাই আমার মূল লক্ষ্য। ধোকেরকুল গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি ভালো রাস্তার অভাবে কষ্ট পাচ্ছিলেন। তাদের এই দুর্ভোগ আমি সহ্য করতে পারিনি। তাই একজন সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিই। ভবিষ্যতেও পাইস্কা ইউনিয়নের যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।

এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, যেভাবে মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবলু ব্যক্তিগত তহবিল থেকে জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই উদ্যোগের ফলে ধোকেরকুল গ্রামের শত শত মানুষের যাতায়াত এখন অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।

আটোয়ারীতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
আটোয়ারীতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া গ্রামের জলিলের ছেলে ইউসুফ আলী (৪৫), পার্শ্ববর্তী বোদা উপজেলার ধরধরা গ্রামের নরেশ রায়ের ছেলে নিমাই (১৪) এবং একই উপজেলার প্রধানপাড়া গ্রামের ইশক লালের ছেলে রিমন চন্দ্র (১৪)।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে তাদেরকে আটোয়ারী উপজেলার ধরধরা রেলগেইট এলাকা থেকে আটক করে আটোয়ারী থানা পুলিশ।

আটোয়ারী থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমানের সার্বিক নির্দেশনায় এবং আটোয়ারী থানার এএসআই জগদীশ চন্দ্রের নেতৃত্বে মাদক বিরোধী এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ধরধরা রেলগেইট এলাকা থেকে মাদক কেনাবেচার সময় তাদেরকে ৫০ গ্রাম গাঁজা সহ আটক করা হয়।

আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে মাদক বিরোধী এক বিশেষ অভিযানে তাদেরকে ৫০ গ্রাম গাঁজা সহ আটক করা হয়। বুধবার (১৩ মে) বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আটোয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে পঞ্চগড় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আটোয়ারী থানা পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তারা জানান।

ইউজিসির গবেষণা প্রকল্প পেলেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিল শাহীন

সালাম মুর্শেদী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম
ইউজিসির গবেষণা প্রকল্প পেলেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিল শাহীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও নবগঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ড. মো. ইস্রাফিল শাহীনের একটি গবেষণা প্রকল্প অর্থায়নের জন্য মনোনীত করেছে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (ইউজিসি)।

পুনর্বাসনের উপায় হিসেবে অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপ, বাংলাদেশের কিশোর সংশোধনাগারগুলোতে কিশোর অপরাধের ওপর গল্প বলা, লোকনৃত্য, গান, আবৃত্তি, অভিনয় ও খেলাধুলার প্রভাব অন্বেষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

এবিষয়ে ড. ইস্রাফিল শাহীন বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপ একটি মানবিক ও কার্যকর পুনর্বাসন পদ্ধতি। শিল্প, সংস্কৃতি, নাটক, সংগীত ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণ বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন তরুণদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব’।

তিনি আরো জানান, ‘গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের কিশোর সংশোধনাগারগুলোতে গল্প বলা, লোকনৃত্য, গান, আবৃত্তি, অভিনয় ও খেলাধুলার মাধ্যমে কিশোরদের মানসিক পরিবর্তন ও নতুন জীবনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে’।

ড. শাহীন মনে করেন, ‘এ ধরনের সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপ শুধু অপরাধ কমাতে নয়, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও দলগত মানসিকতা গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি সংশোধনের পাশাপাশি মানবিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবেও কাজ করবে বলে তার বিশ্বাস’। গবেষণা প্রকল্পটি অর্থায়নের জন্য মনোনীত করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।