আটোয়ারীতে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও টহল অব্যাহত
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নিয়মিত নজরদারি, মনিটরিং ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বছর আটোয়ারী উপজেলায় মোট ৩০টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দিরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করে পূজার আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায়। এ সময় তিনি মন্দিরগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় তদারকি করেন। পূজা উদযাপনে কোনো ধরনের সমস্যা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মোকাবিলায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে উপজেলার বেশ কয়েকটি মন্দিরে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এতে পূজামণ্ডপে অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বিত তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত টহল ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থী ও ভক্তরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায় বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। তাই আটোয়ারীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, উপজেলার ৩০টি পূজামণ্ডপে উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ তৎপরতা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।





