আটোয়ারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম, জড়িত খোদ অফিসারাই
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত টাকা আদায়, দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে অফিসটিকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি দালাল চক্র।
ভুক্তভোগীরা জানান, নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, জমির পর্চা সংশোধন, রেকর্ড যাচাইসহ বিভিন্ন কাজে অফিসে গেলেই প্রথমে দালালদের মুখোমুখি হতে হয়। অফিসের সামনের চায়ের দোকান ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেওয়া এসব দালাল সাধারণ মানুষকে ঘিরে ধরে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে অফিসের ভেতরে থাকা পেসকার আল আমিন ও রেকর্ড কিপার জুলফিকার আলি ভুট্টুর সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক প্রথমে নিজেই ছদ্মবেশে সেবাগ্রহীতা হিসেবে আটোয়ারী উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে যায়। গিয়ে অফিসের রেকর্ড কিপার জুলফিকার আলি ভুট্টুর কাছে একটি খতিয়ানের কপি সহ কিছু কাগজপত্র তোলার জন্য কথাবার্তা বলেন। এসময় একটি খতিয়ানের কপির জন্য তিনি ৫ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত পাঁচশো টাকা চেয়ে বসেন।
একইভাবে অফিসের পেশকার মোঃ আল-আমিনের কাছে অন্য একটি খতিয়ানের কপি এবং কিছু কাগজপত্র চাওয়া হলে তিনিও ৫ হাজার টাকা সহ অতিরিক্ত পাঁচশো টাকা চেয়ে বসেন।
স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, বিভিন্ন অজুহাতে বারবার ঘোরানো কিংবা কাগজপত্রে ভুল ধরার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আমি জমির একটি রেকর্ড সংশোধনের জন্য অফিসে গিয়েছিলাম। পরে এক দালাল এসে বলে দ্রুত কাজ করতে হলে আলাদা খরচ লাগবে। রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন ধরে আমাকে ঘুরানো হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী জানান, “অফিসে সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা কঠিন। দালাল ছাড়া যেন কোনো কাজই হয় না। অফিসের ভেতরের লোকজনের সহায়তা না থাকলে তারা এত প্রভাব বিস্তার করতে পারতো না।”
সরকারি অফিসে দালাল চক্রের এমন দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আটোয়ারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অফিসে কোনো দালাল নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে প্রতারণা করলে সেটির দায় অফিস নেবে না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





