আটোয়ারীতে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, উপকৃত সহস্রাধিক মানুষ
‘রক্ত দিন, জীবন বাঁচান’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও রক্তদানে উৎসাহিতকরণ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার মানুষের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারটি পাড়া ও কালিতলা বাজার এলাকায় এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাতখামার, ঝাপসিপাড়া ও লক্ষ্মীবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কালিতলা বাজারে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পঞ্চগড়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর দিশারী’র আয়োজনে এবং ‘হিমালয় কন্যা ব্লাড ডোনার সোসাইটি, আটোয়ারী, পঞ্চগড়’-এর সহযোগিতায় ক্যাম্পেইনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করেন সাবেক শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবার সেরা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এবং আলোর দিশারীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বাবলুর রশিদ বাবলু।
ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বেচ্ছাসেবীরা বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা ও মানবিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করেন। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে যেন সহজেই রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যেও মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, অনেক মানুষই নিজের রক্তের গ্রুপ জানেন না। অথচ দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতি মায়ের জরুরি চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে মুহূর্তের মধ্যে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। এ সময় নিজের রক্তের গ্রুপ জানা থাকলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদানের মানসিকতা তৈরি হলে অনেক মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। সেই চিন্তা থেকেই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা ভবিষ্যতেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের জনসচেতনতামূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।





