আটোয়ারীতে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন ও আলোচনা সভা।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ রেজাউন নবী রাজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত কুমার রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ অফিসার ডা. মোঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোস্তাক আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান রাসেল ও আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মতিয়ার রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমান জাহেদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহমান আব্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কশিমউদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নুরুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, মহান মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় জীবনে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে অভ্যুত্থান এবং ৭ নভেম্বর সংঘটিত পাল্টা অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
ঐতিহাসিকভাবে ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে সিপাহি ও জনতার অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিদ্যমান সংকটের পরিবর্তন ঘটে। ওই দিন সেনাবাহিনীর তৎকালীন বন্দি কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল শিক্ষা হলো জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, দেশপ্রেম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্ববোধ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয় সংহতির মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
আলোচনা সভায় দিবসটির ঐতিহাসিক পটভূমি ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠান শেষে, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।





