বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪, সিপিএসসি কর্তৃক২ জন অপহরণকৃত ভিকটিম উদ্ধার সহ চাঁদাবাজ দলে ৫ সদস্য গ্রেফতার

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৭:১৯ পিএম
ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪, সিপিএসসি কর্তৃক২ জন অপহরণকৃত ভিকটিম উদ্ধার সহ চাঁদাবাজ দলে ৫ সদস্য গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা এলাকাধীন ২জন অপহরণকৃত ভিকটিম উদ্ধার সহ চাঁদাবাজ দলের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। মামলার অভিযোগের বিবরনে ভিত্তিতে জানা যায় যে, বাদী কুড়িগ্রাম জেলার মোঃ রেজাউল করিম(৪৩), টাইলস মিস্ত্রি হওয়ায় টাইলসের কাজ করার জন্য ময়মনসিংহ এর ফুলপুর থানা এলাকায় আসতো। ঘটনার পূর্ব হতে টাইলসের কাজ করার সুবাদে আসামী মোখলেছুর রহমান স্বপন(২৫), ময়মনসিংহ এর সাথে পরিচয় ছিল। বাদীর পূর্ব পরিচিত বন্ধু মোঃ সাকিব(২০), জেলা-রাঙ্গামাটিকে সংগে নিয়ে ধৃত আসামী মোখলেছুর রহমান স্বপন(২৫), ময়মনসিংহ এর বাড়িতে আসে। এজাহার নামীয় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ দলের আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে বাদী সহ মোঃ সাকিব(২০)কে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানাধীন খাযেরপাড়া (মেরীগাই) সাকিনস্থ ধৃত আসামী মোখলেছুর রহমান এর বসত বাড়ির পাশে ফিসারিজ পাড়ে ১১ আগস্ট ২০২৫খ্রিঃ রাত অনুমান ২৩:৩০ ঘটিকায় আটক করে মারপিট করতঃ ভয়-ভীতি, হুমকি প্রদান করে বাদীর পরিবারের নিকট হতে নগদ এর মাধ্যমে ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ৯০,০০০/-(নব্বই হাজার) টাকা হাতিয়ে নিয়ে আরও টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ বরাবর উপরোক্ত ঘটনা উল্লেখ পূর্বক অভিযোগ দাখিল করে। এছাড়াও উক্ত ঘটনায় ভিকটিম রেজাউল করিম (৪৩) বাদী হয়ে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১০, তারিখ-১২ আগস্ট ২০২৫খ্রিঃ, ধারা-১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। এই অভিযোগ প্রাপ্তির পর র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে অপহরনকৃত ভিকটিমদেরকে ও হাতিয়ে নেয়া ১,১০,০০০/-(এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা উদ্ধারসহ চাঁদাবাজ দলের সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তৎপরতা চালায়।

এরই ধারাবাহিকতায় সিপিএসসি, র‌্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর একটি আভিযানিক দল ১২ আগস্ট ২০২৫খ্রিঃ আনুমানিক রাত ০৩:০০ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণ ও চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য ১। মোখলেছুর রহমান স্বপন (২৫),২। মফিজুল ইসলাম(৫২), ৩। আলেপ হোসেন (৩২), ৪। মোশারফ হোসেন(৩২) এবং ৫। বাবুল মিয়া (২০) সর্বজেলা-ময়মনসিংহ দের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামীদের হেফাজতে থাকা ভিকটিম মোঃ রেজাউল করিম এবং মোঃ সাকিবকে উদ্ধার করতঃ হাতিয়ে নেয়া ১,১০,০০০/-(এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা উদ্ধার করেন।

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানায় ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্কুল ফিডিংয়ে বাড়েছে উপস্থিতি, পুষ্টির পাশাপাশি হাসি ফুটছে আটোয়ারীর শিশুদের মুখে

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পিএম
স্কুল ফিডিংয়ে বাড়েছে উপস্থিতি, পুষ্টির পাশাপাশি হাসি ফুটছে আটোয়ারীর শিশুদের মুখে

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়াতে এবং শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। নিয়মিত ডিম, কলা, পাউরুটি, দুধ ও বিস্কুট পেয়ে আনন্দিত ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। পুষ্টিকর এসব খাবার পেয়ে শিশুদের মধ্যে যেমন তৈরি হচ্ছে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ, তেমনি তাদের শারীরিক গঠন ও চেহারাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটোয়ারী উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১০ হাজার ৩২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী এসব পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

সকালবেলা বিদ্যালয়ে এসে ক্লাসের পাশাপাশি কখন খাবার দেওয়া হবে, সেই অপেক্ষায় থাকে অনেক শিক্ষার্থী। খাবার বিতরণের সময় ছোটদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস। ডিম, কলা, পাউরুটি, দুধ ও বিস্কুটের মতো খাবার পেয়ে আনন্দের সঙ্গে তা খেয়ে নেয় তারা।

শিক্ষকরা বলছেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী নানা কারণে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত থাকলেও স্কুল ফিডিং চালুর পর তাদের উপস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে পাওয়া এসব খাবার বাড়তি উৎসাহ তৈরি করছে। এতে একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের আগ্রহও বাড়ছে।

আটোয়ারীর কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, খাবার বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়। শিক্ষকরা সুশৃঙ্খলভাবে শিশুদের হাতে খাবার তুলে দেন। শিশুরাও আনন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করে।

অভিভাবকদের কয়েকজন জানান, পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে প্রতিদিন সন্তানদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি ও বিস্কুট পাওয়ায় তারা স্বস্তি বোধ করছেন। তাদের মতে, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় কর্মসূচিটি পরিবারগুলোর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে।

এক শিক্ষার্থী আনন্দ প্রকাশ করে বলে, স্কুলে এসে পড়াশোনা করি, আবার খাবারও পাই। ডিম, কলা আর দুধ পেতে আমাদের খুব ভালো লাগে।

শিক্ষকদের মতে, একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধার্ত অবস্থায় শিশুর পক্ষে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পেলে শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পায়।

সচেতন মহল মনে করছে, প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, ঝরে পড়ার প্রবণতা কমানো এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে খাবারের মান, পরিমাণ ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

আটোয়ারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। নিয়মিতভাবে কর্মসূচি পরিচালিত হলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শিক্ষা ও শারীরিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আটোয়ারীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং এখন শুধু শিশুদের ক্ষুধা মেটানোর কর্মসূচি নয়; এটি হয়ে উঠছে বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্রতিদিন খাবার হাতে পেয়ে ছোট ছোট মুখে যে হাসি ফুটছে, তাতেই যেন প্রতিফলিত হচ্ছে কর্মসূচিটির গুরুত্ব।

আটোয়ারীতে দেড় লক্ষ মানুষের ৫ জন চিকিৎসক, শয্যা সংকটে রোগীরা

জিল্লুর হোসেন সরকার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৮ এম
আটোয়ারীতে দেড় লক্ষ মানুষের ৫ জন চিকিৎসক, শয্যা সংকটে রোগীরা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট। প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রধান আশ্রয়স্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন। ফলে সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন শত শত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

শুধু চিকিৎসক সংকটই নয়, হাসপাতালটিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদও রয়েছে ব্যাপক শূন্যতা। তৃতীয় শ্রেণির অনুমোদিত ৭২টি পদের মধ্যে ৩০টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৩৪টি পদের মধ্যে ২২টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল জনবল দিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ইনডোরসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কর্মরতদের ওপরও পড়ছে অতিরিক্ত চাপ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিতভাবে একশোরও বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। ফলে অনুমোদিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ধুলাবালির মেঝেতে অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে চিকিৎসা নেওয়ার দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রয়োজনীয় শয্যা না পাওয়ায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় স্বজনদের দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই শয্যায় একাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও শিশু রোগীরা। হাসপাতালে একজন গাইনি চিকিৎসক থাকলেও কিছুদিন আগে তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে ওই পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে গর্ভবতী নারীসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত নারী রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় শিশু রোগীদেরও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এই হাসপাতালই চিকিৎসার সহজলভ্য ঠিকানা। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও শয্যা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে।
জটিল রোগী কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞসহ প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর, রংপুর কিংবা ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন রোগীদের চিকিৎসা পেতে সময় লাগছে, অন্যদিকে দরিদ্র পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় দেড় লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ এই হাসপাতালেই চিকিৎসক ও জনবলের এমন ঘাটতি থাকায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ছোটখাটো জটিলতাও অনেক সময় বড় শহরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থানীয়রা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। একদিকে চিকিৎসকের তীব্র সংকট, অন্যদিকে শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপ সব মিলিয়ে সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না; হাসপাতালের অনুমোদিত চিকিৎসক ও কর্মচারীর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্প্রসারণ করে শয্যার সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

তাদের প্রত্যাশা, প্রায় দেড় লাখ মানুষের একমাত্র প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত নিরসনে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও শয্যা নিশ্চিত করা গেলে এই এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও মানসম্মত হবে।

আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ অফিসার ডা. মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের হাসপাতালে ডাক্তার ও বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যা কম। অনুমোদিত ৪০ একজন ডাক্তারের বিপরীতে মাত্র ৫ জন ডাক্তার রয়েছে। মাত্র পাঁচজন ডাক্তার দিয়ে প্রতিদিন শত শত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অনুমোদিত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং পর্যাপ্ত ডাক্তার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। অতি শীঘ্রই অনুমোদিত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং পর্যাপ্ত ডাক্তার নিয়োগের মাধ্যমে আটোয়ারী বাসীর জন্য চিকিৎসা সেবার মান আরো বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

আটোয়ারীতে কাজের শুরুতেই ভবনের বিম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

সালাম মুর্শেদী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ পিএম
আটোয়ারীতে কাজের শুরুতেই ভবনের বিম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

oplus_2

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বড়দাপ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনের বিম তৈরির কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনের বিম ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে কিউরিং (রক্ষণাবেক্ষণ) করা হচ্ছে না। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় শিক্ষা প্রটোকল-৫০ প্রকল্পের অধীনে উপজেলার বড়দাপ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্যানিটারি, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়ন কাজসহ ৪ তলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলতি বছরের ১৯ জুন শুরু হয়। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ধরা হয় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোঃ গোলাপ হোসেন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ভবনের বিম নির্মাণের পর নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ধরে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া এবং চটের বস্তা বা অন্য উপকরণ দিয়ে ঢেকে রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ফলে কংক্রিট দ্রুত শুকিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে নির্মাণের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাবি করেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা নিম্নমানের কাজ যেন না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। কাজের প্রতিটি ধাপ প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কারিগরি নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের বিমের নির্মাণের কাজ চলমাম রয়েছে। তবে বিম নির্মাণের পর কংক্রিটকে আর্দ্র রাখার জন্য কী ধরনের কিউরিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণ, রডের পরিমাণ, কংক্রিটের মিশ্রণ এবং ঢালাই-পরবর্তী কিউরিং নির্ধারিত প্রকৌশলগত নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু নির্মাণকাজে যদি মান বজায় না রাখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র জানান, ভবন নির্মাণের কাজের কারিগরি বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ দেখভাল করছে। নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, ভবনের বিম নির্মাণের পর নিয়ম অনুযায়ী চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে কিউরিং (রক্ষণাবেক্ষণ) করা হয়নি এবং আমার চোখেও পড়েনি৷ যখন দেখলাম বিম নির্মাণ করা হচ্ছে তখন বিমের উপর কোনো চটের বস্তা দেওয়া হয়নি৷ তাই দ্বায়িত্বে থাকা সাব ইন্জিনিয়ারি ও ঠিকাদারকে ফোন করে অবগত করেছি তারা চটের বস্তা দিয়ে বিমের টেকসইয়ের জন্য কাজ করার কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ গোলাপ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মতামত পাওয়া যায়নি। তবে সাব-ঠিকাদার মোঃ শহীদ জানান, বৃষ্টির কারণে চটের বস্তা দেওয়া হয়নি। তবে আমাদের লোকজন ইতোমধ্যে চটের বস্তা কিনতে গেছে। অতি শিগগিরই সব ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাব এসিস্ট্যান্ট ইন্জিনিয়ার শ্রীমন্ত বাবু জানান, বিম নির্মাণের পর সেটার দায়িত্ব ধরে রাখার জন্য চটের বস্তা দেওয়াটা আবশ্যক। সাধারণত বিমগুলো পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়। শুধু পানি ছিটিয়ে দিলেই হবেনা। বিম যেন পর্যাপ্ত মানুষ পানি শোষণ করতে পারে সেজন্য চটের বস্তা দেওয়া নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কি কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেটা দেয়নি আমরা দু’একদিনের মধ্যে তদারকি করে চটের বস্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, কংক্রিটের বিম বা ঢালাই কাজের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিয়মিত পানি দিয়ে কিউরিং করা নির্মাণকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ কিউরিং না হলে কংক্রিটের শক্তি ও স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। শুধু চটের বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিই নির্মাণমান নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। বরং ঢালাইয়ের পর কংক্রিটকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যথাযথভাবে আর্দ্র রাখা হচ্ছে কি না এবং প্রকল্পের অনুমোদিত কারিগরি নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে কি না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কারিগরি নির্দেশনা যাচাই করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।